আমার প্রিয় দশটি রবীন্দ্র সংগীত

রবীন্দ্র সংগীত শোনে না এমন বাঙালি বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না।বাংলা গানের জগতে রবীন্দ্রনাথের গান নিয়েই সম্ভবত সবচেয়ে বেশী পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। উইকিপিডিয়ায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গানের সংখায় ২২৩২ টি। কবিগুরু তার গানগুলোকে মোট ৬ টি পর্যায়ে ভাগ করেছেন। এগুলো হচ্ছে- পূজা, প্রেম, স্বদেশ, প্রকৃতি, বিচিত্র এবং আনুষ্ঠানিক। এই লেখাটিতে মূলত আমার প্রিয় দশটি গান আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। গানের লিরিক্স পুরোটা উল্লেখ করবো না, তবে গানের ভিডিও জুড়ে দিলে মন্দ হবে না, কি বলেন?

উল্লেখ্যঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিটি  ক্রিয়েটিভ কমন্স অ্যাট্রিবিউশন-শেয়ার অ্যালাইক ৪.০ আন্তর্জাতিক লাইসেন্সের আওতায় লাইসেন্সকৃত। ছবির বর্ণনা

প্রিয় গানগুলো

অনেক রবীন্দ্রসংগীত আছে যেগুলো আমার প্রিয়। তবে এখানে আমি যেহেতু দশটি গানের তালিকা দিতে চেয়েছি, তাই দশটিই দেব।সেক্ষেত্রে ভালোলাগার তীব্রতা অনুসারে কোন রেটিং দিয়ে আমি ১,২,৩ এরকম ক্রমে ভাগ করে বেছে নেব না। দৈবচয়নে ভালো লাগা গানগুলো থেকে ১০ টি রবীন্দ্র সংগীত বেছে নেবো।

  • গহনো কুসুম কুঞ্জ মাঝেঃ এই গানটি বাংলা ভাষায় লেখা হয় নি, এটি ব্রজবুলি ভাষার। রাগ-কীর্তন, তাল- একতাল, রচনাকাল- ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দ, স্বরলিপিকার- জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সরলা দেবী। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে ব্রজবুলি ভাষা অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। বাংলা এবং মৈথিলি(সম্ভবত নেপালে এই ভাষা আছে) ভাষার মিশ্রণে তৈরি কাব্যভাষা। রবীন্দ্রনাথের ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলি’ এই ভাষায় রচিত।

গানের কথা(প্রথম চার লাইন)-

গহন কুসুমকুঞ্জ-মাঝে
মৃদুল মধুর বংশি বাজে,
বিসরি ত্রাস-লোকলাজে
সজনি, আও আও লো।

আরো পড়ুন-  আভাসের নতুন গান আভাস- তুহীন নাকি শিরোনামহীন

ভিডিওতে যে গানটি শুনতে পাবেন, সেটি গেয়েছেন শ্রাবণী সেন।

  • শুন লো শুন লো বালিকাঃ বুজতেই পারছেন ব্রজবুলির প্রতি আমার এক ধরণের ভালোলাগা রয়েছে। এই গানটিও ব্রজবুলি এবং ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলি থেকে নেয়া। রাগ- ভৈরবী-কীর্তন, রাগ- একতাল, রচনাকাল- ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দ।

প্রথম চার লাইন-

 শুন লো শুন লো বালিকা,
রাখ কুসুমমালিকা,
কুঞ্জ কুঞ্জ ফেরনু সখি শ্যামচন্দ্র নাহি রে।
দুলই কুসুমমুঞ্জরী

এই গানটি শুনতে পাবেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কন্ঠে। আমার প্রিয় শিল্পীদের মধ্যে তিনি একজন। আগের গানটি যার কন্ঠে শুনেছিলেন, শ্রাবনী সেন- তার গাওয়া গানও শুনতে খুব ভালো লাগে।

  • তোমার খোলা হাওয়াঃ আর আপনাদের বিরক্ত করবো না, কথা দিলাম। এই গানটি পুরোপুরি বাংলায় রচিত। রাগ-সারিগান, তাল-কাহারবা, রচনাকাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ, লেখা হয়েছে শান্তিনিকেতনে এবং স্বরলিপিকার সুধীরচন্দ্র কর।

প্রথম ৪ লাইন-

তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে টুকরো করে কাছি
আমি ডুবতে রাজি আছি আমি ডুবতে রাজি আছি ॥
সকাল আমার গেল মিছে, বিকেল যে যায় তারি পিছে গো–
রেখো না আর, বেঁধো না আর কূলের কাছাকাছি ॥

গানে যাকে দেখতে পাচ্ছেন- তিনি এই গানের গায়িকা শাহানা বাজপেয়ী। আর, এই গানটি আমরা যাদের মিউজিক এরেঞ্জমেন্টে উপহার পেয়েছি তারা হচ্ছে গান বাংলা টিভি টীম।

  • এরা সুখের লাগি চাহে প্রেমঃ এই গানের কথাগুলো আমাকে খুব টানে। রাগ- বিভাস-কীর্তন, তাল-দাদরা, রচনাকাল- ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দ, কলকাতার এবং দার্জিলিং এ বসে কবিগুরু এই গানটি রচনা করেছিলেন, স্বরলিপিকার- ইন্দিরা দেবী।

গানের কথা-

এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না,
শুধু সুখ চলে যায়।
এমনি মায়ার ছলনা।
এরা ভুলে যায়, কারে ছেড়ে কারে চায়।

আরো পড়ুন-  আভাসের নতুন গান আভাস- তুহীন নাকি শিরোনামহীন

যার কন্ঠে গানটি শুনছেন তার নাম সাগর সেন। সাগর সেনের গানগুলো শুনলে একটা অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে। একটি সিনেমায় এই গানটি ব্যবহার করা হয়েছিল।

  • তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালেঃ গানটি শানের গলায় শুনতে ভালোই লাগে। রাগ- সারিগান, তাল- কাহারবা, রচনাকাল- ৩ সেপ্টেম্বর ১৯১৪, এটি রবীন্দ্রনাথ রচনা করেছিলেন শান্তিনিকেতনে, স্বরলিপিকার- সুধীরচন্দ্র কর।

প্রথম চার লাইন-

তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে টুকরো করে কাছি
আমি ডুবতে রাজি আছি আমি ডুবতে রাজি আছি ॥
সকাল আমার গেল মিছে, বিকেল যে যায় তারি পিছে গো–
রেখো না আর, বেঁধো না আর কূলের কাছাকাছি ॥

 

এই গানটি খোলা হাওয়া এলবামের। মিউজিক এরেঞ্জমেন্ট করেছেন পিযুষ ধর।

  • জাগরণে যায় বিভাবরী, আখি হতে ঘুম নিলো হরিঃ রঞ্জনা আমি আর আসবো না সিনেমাতেও এই গানটি ব্যবহার করা হয়েছিল। রাগ- বেহাগ, তাল- কাহারবা, রচনাকাল- ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ, স্বরলিপিকার- দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

প্রথম চার লাইন-

জাগরণে যায় বিভাবরী–
আঁখি হতে ঘুম নিল হরি মরি মরি॥
যার লাগি ফিরি একা একা– আঁখি পিপাসিত, নাহি দেখা,
তারি বাঁশি ওগো তারি বাঁশি তারি বাঁশি বাজে হিয়া ভরি মরি মরি॥

 কবির সুমন, অঞ্জন দত্ত আর, সোমলতা আচার্য্যের কন্ঠে শুনতে বেশ ভালো লাগে। আমি তো প্রায় প্রতিদিনই শুনি।

 

 

admin

আমার সম্পর্কে তেমন কিছু বলার নেই। লিখতে পারি না, তাই সবার লেখার জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরির চেষ্টা করছি।

Leave a Reply

error: Content is protected !!