রাতে ঘুম না হলে করণীয় কি- ১০ টি উপায় আপনাদের জন্য

রাতে ঘুমানোর উপায় বা, করণীয় বিষয়গুলো জানা থাকলে কোন ঘুমের অষুধের দরকার পড়ে না, এমনিতেই ভালোভাবে ঘুমানো যায়। খুব সহজ এই দশটি পদ্ধতি আপনি প্রতিদিন অনুসরণ করুন, এরপর ঘুম না হলে আমাকে গালাগালি দিয়েন। চলুন শুরু করি-

    1. চা, কফি বন্ধঃ ক্যাফেইন মানুষকে ঘুমাতে দেয় না। চা-কফিতে ক্যাফেইন থাকে এবং এর প্রভাব আপনি যতটা সময় থাকে বলে আপনি ভাবছেন তার চেয়ে অনেক বেশী। প্রায় ৮ ঘন্টা চা-কফির প্রভাব থাকে। কারো ঘুমের সমস্যা থাকলে তার উচিত হবে অন্তত রাতে না খাওয়া। 
    2. শান্ত, নিরব, আরামদায়ক বেডরুমঃ হৈ চৈ হয় এরকম কোন কক্ষকে শোবার ঘর হিসেবে ব্যবহার করবেন না। চেষ্টা করবেন নিরিবিলি কোলাহলমুক্ত জায়গায় থাকত। আপনি খাটে ফ্লোরে বা, লাখ টাকার বিছানায় ঘুমান না কেন সেটা আরামদায়ক হতে হবে অর্থাৎ, এবড়ো থেবড়ো হওয়া চলবে না।
    3. খাইব সুখে, ঘুমাবো সুখেঃ রাতে ঠিকমত ঘুম হচ্ছে না এই ব্যাপারটা আপনাকে ভাবাচ্ছে, কিন্তু ভেবে দেখেছেন- আপনি কি খাচ্ছেন। খালিপেটে ঘুম আসে না, আবার ভরপেট খেলেও ঘুম আসে না। রাতে সবসময় সহজে হজম হয় এরকম খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। ইংরেজীতে একটা কথা আছে- “Eat right, sleep tight”
  1. বিড়িখোরদের জন্য বিশেষ পরামর্শঃ যারা সিগারেট না খেয়ে এক বেলাও থাকতে পারেন না, তাদের উচিত রাতে ঘুমানোর আগে সিগারেটের অভ্যাস ত্যাগ করে সকালে ঘুম থেকে উঠে খাওয়া। আপনারা ভালো করে জানেন ঘুম কাটানোর ভালো উপায় সিগারেট খাওয়া, তুই আমাকে ঘুমাতে দিচ্ছিস না- এইসব বলবেন না, হ্যাঁ সিগারেটের কারণেই আপনার ঘুম আসছে না। “ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর”- এটা মেনে চললে সবচেয়ে ভালো।
  2. মোবাইল, টিভি এগুলো বন্ধঃ  রাতে মোবাইল টেপাটেপি, ঘুমানোর আগে টিভি দেখা এই অভ্যাসগুলো ত্যাগ করতে হবে। সময় কখন পার হয়ে যাচ্ছে টেরও পাবেন না, যদি এই দুইটি যন্ত্র আশেপাশে থাকে। ঘুমানোর আগে এই দুইটি যন্ত্রকে এড়িয়ে চলাই ভালো
  3. ঘুমানোর আগে আবেগী আলোচনাঃ বিছানা ঘুমানোর জায়গা। এটা আলোচনা করার জায়গা না- সুতুরাং বিছানায় ঘুমাবেন এবং থাক বললাম না। আলোচনা করার জায়গা এটা না। অতীতের স্মৃতি মনে করে কান্নাকাটি বা, হাসাহাসি করলে ঘুম উধাও হয়ে যাবে। 
  4. নিয়মিত শারিরিক পরিশ্রম করুনঃ যারা নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে শারিরিক পরিশ্রম করে তারা শুধু সুস্থই থাকে না, ভালো ঘুমায়ও বটে। আপনি যদি পরিশ্রমের কাজ করেন, তাহলে এই লেখাটা আপনি পড়তে আসেননি। আপনি একটা আলসে- আগামীকাল থেকে ব্যায়াম কিংবা, কোন খেলাধুলা শুরু করুন- শরীর, মন দুইটাই ভালো থাকবে- ঘুমও হবে। 
  5. ঘুমানোর দুআ পড়ে ঘুমাবেনঃ এখন কি ভাবছেন- এই লোকটা এতক্ষণ বিজ্ঞানসম্মত কথা বলে এখন যুক্তি বাদ দিয়ে বিশ্বাসে চলে গেলো।কিংবা, আমি তো মুসলিম না, আমি কেন ঘুমের দুয়া পড়বো? Let’s Explain. দুআ পড়লে মুসলিমদের মনে এই বিশ্বাস জন্মাবে যে, এখন আমার ঘুম হবে। এটা মনকে দুশ্চিন্তামুক্ত করবে, চিন্তামুক্ত মন ঘুমের জন্য সহায়ক। অন্য ধর্মের অনুসারীরাও তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী এরকম দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পারেন- এমনকি নাস্তিকেরাও তাদের দুশ্চিন্তা দূর করার কোন পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। 
  6. সকালের সূর্য্য ঘুম ভাঙ্গায় আর রাতেঃ রাতেও ঘরের ভেতর আলো থাকলে সহজে ঘুম আসে না। ছোটবেলায় আমি আলো ছাড়া ঘুমাতে পারতাম না- এর কারণ ছিল ভয়, অন্ধকারের।শোবার ঘরকে রাতে ঘুমানোর সময় আলোমুক্ত রাখুন। 
  7. কুত্তা, বিলাই সাথে নিয়ে ঘুমাইঃ আমার কুকুর খুবই পছন্দের, ওকে ছাড়া আমি এক মুহুর্ত থাকতে পারি না। মানুষ বিশ্বাসঘাতকতা করে, কুকুর করে না। এটা যারা মনে করেন তাদের উচিত রাতে আপনার পোষা সুন্দর প্রাণীটির সাথে না ঘুমানো। বিভিন্ন রোগের জীবাণু, এলার্জি কিংবা, এদের নড়াচড়া আপনার ঘুমকে তাড়াবে। 

আরো পড়ুন-

  1. খুসকি দূর করার উপায়
  2. ক্রিকেটে আউট কত প্রকার

এছাড়া মদ বা, এলকোহলজাতীয় কিছু রাতে খাবেন না- আমি আপনাকে দিনেও খেতে বলছি না(রাতে ঠিকমত ঘুম হবে না যদি রাতে খান)।অনেকে কালকে কি করবেন সেই উত্তেজনায় ঘুমাতেই পারেন না, ভালো ঘুম না হলে আপনার কালকের পরিকল্পনার বাসস্তবায়ন ব্যাহত হতে পারে কিন্তু ।

 

admin

আমার সম্পর্কে তেমন কিছু বলার নেই। লিখতে পারি না, তাই সবার লেখার জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরির চেষ্টা করছি।

Leave a Reply