মাশরাফি বিন মর্তুজা- দ্যা ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাসটিক

মাশরাফি বিন মর্তুজা নামের এক তরুণের বাংলাদেশ জাতীয় দলে অভিষেক হয় ২০০১ সালে। তখন তিনিই ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম জেনুইন ফাস্ট বোলার। গতির কারণে তাকে নড়াইল এক্সপ্রেস নামে ডাকা হতো। বারবার ইনজুরিতে পড়া ৩৫ বছর বয়সী মাশরাফি যে গতিতে এখন বল করছেন প্রায় একই গতিতে নতুন দলে আসা কম বয়সী বোলাররাও বল করেন।

মাশরাফি এখনো কিভাবে জাতীয় দলে খেলেন?

এই ধরণের প্রশ্ন সাকিবের মত বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারকেও প্রায়ই শুনতে হয়(সাকিব টাকার জন্য খেলে, নিজের জন্য খেলে হ্যান ত্যান)।

মাশরাফির ক্যাপ্টেন্সি বা ইনজুরি থেকে ফিরে আসার গল্প আজকে বলবো না। (ফ্লিনটপের মত খেলোয়াড় একবার ম্যাশের মত ইনজুরিতে পড়েই আর, খেলায় ফেরেননি)

ধরে নেই তিনি অভিজ্ঞ কেউ নন, ক্যাপ্টেন নন- শুধু পারফরম্যান্সের জোরে কি বাংলাদেশ দলে জায়গা পাবেন?

প্রথমে ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান দেখি

  • উইকেট: ২১৩ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ২৬৬ উইকেট
  • এভারেজ: ৩২.২৭
  • ইকনমি: ৪.৮৪
  • সেরা বোলিং: ২৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট
  • চার উইকেট নিয়েছেন ৭ বার, ৫ উইকেট এক বার

শুধু পরিসংখ্যান দেখে এই খেলোয়াড়কে কি দলে খেলাবেন, নাকি তার বদলে বেশী ইকনমি, এভারেজের কোন বোলারকে সুযোগ দেবেন

ভারতের সাথে বাংলাদেশের ২০০৪ সালের জয়ে তিনি বড় ভূমিকা রেখেছিলেন, ২০০৭ এর জয়েও। শ্রীলংকার শক্তিশালী দলকে মাশরাফি এবং নাজমুল হোসেন নাকানি-চুবানি খাইয়েছিলেন।

সাঙ্গাকারার উইকেট বা, শেন ওয়াটসনের উইকেট ইনিংসের শুরুতে এনে দেয়ার মত কাজ এই বোলার অতীতে করেছেন। মাহেলা জয়াবর্ধনে তাকে Unsung Hero বলেছিলেন।

২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে পরিসংখ্যান সহ দেখিয়ে দেয়া হয়েছে গত তিন বছরে বাংলাদেশের সেরা বোলার মাশরাফি। মোস্তাফিজ ১ ম্যাচ খারাপ খেললে পরের দিন আপনারা বলবেন- বিয়ে করেই এই অবস্থা। সাইফুদ্দিন খুব খারাপ বোলিং করলে বলবেন একে কেন নেয়া হয়েছে, রুবেলকে নেয়া হলে সে যদি ডেথ অভারে মুরালিধরণের কাছে যেভাবে বেদম মার খেয়েছিলো তেমন খায় তাহলে বলবেন- রুবেল ইজ নট হ্যাপি।

ইমরুলের জন্য কিছুদিন আগে আপনাদের ভালোবাসার অন্ত ছিল না, আগে যখন খেলতো তখন বলতেন ওপেনিং এ খেলার মত আর কেউ কি নাই। এখন-  Liton Das Not Out, কিছুদিন পর আবার কোটায় খেলে

বিশ্বের সেরা বোলাররা এই বিশ্বকাপে কত করে রান দিচ্ছে একটু খোজ নিয়ে দেখুন। ৯ ওভারে রশিদ খান সেঞ্চুরি করেছে, মাশরাফি, মুস্তাফিজ সাইফুদ্দিনরা সেই তুলনায় ভালোই করছে।

ফিল্ডিং এবং ব্যাটিং এও আমাদের ক্যাপ্টেন ভালো ইমপ্যাক্ট তৈরি করতে পারেন। ভারতীয়দের মাশরাফি একসময় ব্যাটিং-বোলিং দিয়ে হারিয়েছে। তাই বোরিয়া, আগারকারের সেই জালা এখন লিখে আর বলে মেটাচ্ছে। মুশফিককে ভারতবিরোধী প্রমাণের চেষ্টাটাও একই কারণে।

ম্যাশ ভালো খেললে যাদের কাটা ঘায়ে নুনের ছেটা লাগছে তারা দূরে থাকেন। যার জন্য বাংলাদেশ দল জিততে পারে এই আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিলো, তাকে ব্যাটিং পিচে ১-২ ম্যাচের খারাপ বোলিং এর কারণে তার শেষ বিশ্বকাপে দয়া করে কাঠগড়ায় দাড় করাবেন না।

খেলা হবে, বাংলাদেশ জিতবে- ভালো খেলোয়াড়দের নতুন রেকর্ডও হবে, কিন্তু বাংলাদেশের দর্শক সাবালক হবে কবে?

 

admin

আমার সম্পর্কে তেমন কিছু বলার নেই। লিখতে পারি না, তাই সবার লেখার জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরির চেষ্টা করছি।

Leave a Reply